রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২১ এ.এম, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতীক খুরশিদ আলম কলি সিকদার খুরশিদ আলম কলি সিকদার তৃণমূলের রাজনীতিতে ফেরার প্রত্যাশা অনুসারীদের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতীক খুরশিদ আলম কলি সিকদার

নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করা জননেতা মো. খুরশিদ আলম কলি সিকদারকে ঘিরে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে তৃণমূলের রাজনৈতিক অঙ্গনে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকার কথা তুলে ধরে তাঁকে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন তাঁর অনুসারীরা।

রাজনৈতিক জীবনের শুরু ১৯৮২ সালে। সে সময় ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা খুরশিদ আলম কলি সিকদার একসময় পিরোজপুরের ছাত্রদলের রাজপথের পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতির মধ্যে রয়েছে উপজেলা যুবদলের সদস্য, উপজেলা বিএনপির পাঠাগার সম্পাদক, ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও যুগ্ম আহ্বায়ক এবং রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর অনুসারীদের দাবি, দীর্ঘ ৩৫ থেকে ৪০ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় খুরশিদ আলম কলি সিকদার নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেছেন। জেল-জুলুম, মামলা এবং পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি দীর্ঘ সময় রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে মোরেলগঞ্জ, পিরোজপুর ও ঢাকায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের অভিজ্ঞতার সঙ্গে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক বিএনপির একাধিক নেতার নামও উঠে আসে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, খুলনার বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও বকুল, বাগেরহাটের বিএনপি নেতা সেলিম, এম এ সালাম, খাদেম নিয়ামুল নাসির আলাপ এবং পিরোজপুরের বিএনপি নেতা অধ্যাপক আলমগীর হোসেন ও সাইদুল ইসলাম কিসমতসহ আরও অনেকে। প্রয়াত বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গেও তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল বলে তাঁর অনুসারীরা জানান।

স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয়তার অন্যতম দৃষ্টান্ত হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেন অনুসারীরা। তাঁদের দাবি, দলীয় আস্থা অর্জন করে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সে সময় নির্বাচনে প্রশাসন ও প্রতিপক্ষের প্রভাব খাটিয়ে তাঁর ভোট কেটে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় সংশ্লিষ্ট উপজেলার অন্যান্য বিএনপি প্রার্থীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও খুরশিদ আলম কলি সিকদার নির্বাচনের শেষ দিন পর্যন্ত মাঠে ছিলেন। এর পরিণতিতে তাঁকে দীর্ঘদিন এলাকা থেকে দূরে থাকতে হয়েছে এবং একাধিক মামলার আসামিও হতে হয়েছে বলে তাঁর অনুসারীরা দাবি করেন। এ ছাড়া তাঁর পৈতৃক বাড়িতে ডাকাতি করে মালামাল লুটের অভিযোগও করেন তাঁরা। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

অনুসারীদের মতে, ১৯৯৬ সালে প্রয়াত বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমানের মৃত্যুর পর স্থানীয় রাজনীতিতে দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে খুরশিদ আলম কলি সিকদার সাংগঠনিকভাবে পিছিয়ে পড়েন। মোরেলগঞ্জের স্থানীয় রাজনৈতিক বিভাজন ও দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে একপর্যায়ে তিনি কিছুটা নিজেকে গুটিয়ে নেন বলে তাঁদের দাবি।

পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক কাজে পিরোজপুরে অবস্থান করলেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ অব্যাহত ছিল বলে অনুসারীরা জানান। তাঁদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন।

মোরেলগঞ্জ এলাকায় তাঁর নেতৃত্বে একসময় রাজনীতি করা ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী বর্তমানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে তাঁর অনুসারীরা দাবি করেন। যদিও বর্তমানে ইউনিয়ন বা উপজেলা বিএনপির কোনো পদে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন না, তবু স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর যোগাযোগ ও প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন তাঁরা।

এদিকে তাঁর অনুসারীদের কেউ কেউ আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা আমাদের নেতাকে মিস করছি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত।

অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপির নতুন প্রজন্মের কারও কারও মন্তব্য, তিনি দীর্ঘ দিন রাজনীতিতে অনুপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁর অনুসারীরা এ বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও তিনি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুবার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাঁদের মতে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে তাঁকে রাজনীতিতে অনুপস্থিত বলা যথাযথ নয়।

খুরশিদ আলম কলি সিকদারের অনুসারীদের প্রত্যাশা, অতীতের রাজনৈতিক অবদান, অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার মূল্যায়ন করে তাঁকে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁদের মতে, ব্যক্তিগত ও দলীয় গ্রুপিংয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে খুরশিদ আলম কলি সিকদার আবারও তৃণমূলের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা তাঁর অনুসারীদের। তবে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোবে, তা নির্ভর করবে দলীয় সিদ্ধান্ত, স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সংশ্লিষ্ট মহলের উদ্যোগের ওপর।

  • শেয়ার করুন:
এই বিভাগের আরও খবর
পাঠকের মন্তব্য
  • এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করুন
সর্বশেষ খবর
Make Your Business Digital
10%
OFF
Domain only
1650 TK
5GB NVME Hosting
2500 TK
High Speed Website with High Security
Call : 01631101031
SPACE FOR ADD
200 x 350
SPACE FOR ADD
200 x 350