রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২০ এ.এম, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় উদ্যোগ, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৯১৮ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় উদ্যোগ, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৯১৮ মেগাওয়াট
  • বানিজ্য
  • abc editor - ২৩ সেপ্টেম্বর, ০১:৫৭ এ.এম ৩৩

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় বেসরকারি খাতের মাধ্যমে উৎপাদিত প্রায় ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ইতোমধ্যে ১২টি স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের (আইপিপি) সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এসব প্রকল্পের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ৯১৮ মেগাওয়াট। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ টাকা ১২ পয়সা।


বিপিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, নতুন এসব প্রকল্পে বিদ্যুতের নির্ধারিত মূল্য আগের একই ধরনের প্রকল্পগুলোর তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৫ সেন্ট কম। এদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটাতে ব্যাটারিসহ ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহ দিতে বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচি চালু করেছে সরকার।


এই কর্মসূচির আওতায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ টাকা। এর সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা।


টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ০৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে ১ হাজার ৪৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট সক্ষমতা। বাকি ৩৭৮ দশমিক ৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে অফ-গ্রিড ব্যবস্থায়।


অন্যদিকে, বিপিডিবি নিজস্ব অর্থায়নে আরও ৬৮৯ মেগাওয়াট সক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব প্রকল্প ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।


কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুরের ভাইস চেয়ারম্যান ইমরান করিম জানান, তার প্রতিষ্ঠান ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার তিনটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। প্রকল্প তিনটি ২০২৮ সালের মধ্যে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।


বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিবদ্ধ ১২টি প্রকল্পের মধ্যে সর্বোচ্চ ২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হবে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। এ ছাড়া পাবনার ঈশ্বরদীতে স্থাপন করা হবে ১৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতার আরেকটি কেন্দ্র।


কক্সবাজারে ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার দুটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সক্ষমতার আরও একটি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে বাগেরহাটের মোংলায়। পাশাপাশি ঈশ্বরদীতে নির্মাণ করা হবে ৭০ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র।


বাকি প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হবে মৌলভীবাজারের বিবিয়ানা, নীলফামারীর জলঢাকা, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, মৌলভীবাজার সদর, চট্টগ্রামের হাটহাজারী এবং নোয়াখালীর সুধারামে। এসব প্রকল্পের প্রতিটির উৎপাদন সক্ষমতা ১০ থেকে ৫০ মেগাওয়াটের মধ্যে।


বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত এসব চুক্তি সরকারের বৃহত্তর জ্বালানি মিশ্রণ কৌশলের অংশ। নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রচলিত জ্বালানি, বিশেষ করে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।


তিনি আরও বলেন, রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করেছে বিপিডিবি। এ ছাড়া অবকাঠামো বিনিয়োগ সহায়তা কোম্পানি (আইআইএফসি) ফেনীর সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াট সক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংস্থাটি নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৮ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে, নিজস্ব ভবন ও জমিতে ১৭টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের জন্য দুই বছর আগে দরপত্র আহ্বান করেছিল বিপিডিবি।


কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদী বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারবে।


নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর অংশ হিসেবে আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ। আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করাই এ লক্ষ্যের উদ্দেশ্য।


সরকারের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।


পাশাপাশি বায়ু, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও অ্যাগ্রিভোলটাইক্সসহ অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।


জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদী বলেন, সরকার সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহিত করতে পারলে এ খাতে সরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা কমবে।

  • শেয়ার করুন:
এই বিভাগের আরও খবর
পাঠকের মন্তব্য
  • এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করুন
সর্বশেষ খবর
Make Your Business Digital
10%
OFF
Domain only
1650 TK
5GB NVME Hosting
2500 TK
High Speed Website with High Security
Call : 01631101031
SPACE FOR ADD
200 x 350
SPACE FOR ADD
200 x 350