নিউজ ডেস্কঃ
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় মোবাইল ফোনের টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মধু (৬০) নামে এক ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় কার্পাসডাঙ্গার মুচির বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মধু দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের আরামডাঙ্গা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মুচির বটতলা এলাকায় ভ্যানে করে ফল বিক্রি করে আসছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী আবু সাইদ জানান, ফুটপাতে দোকান বসানোসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফল ও সবজি বিক্রেতাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে মারামারির সৃষ্টি হলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মধুর বুকে আঘাত করা হয়। এতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
নিহতের ছেলে শামিম (২৫) জানান, উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের সোহাগের কাছ থেকে তিনি একটি মোবাইল ফোন কিনেছিলেন। মোবাইলটির মূল্য বাবদ ১ হাজার টাকা বকেয়া ছিলো যা দেওয়ার কথা থাকলেও বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। বাকি ৫০০ টাকা নিতে শুক্রবার সোহাগ সেখানে আসেন। তবে এ সময় সোহাগ দাবি করেন, তার কাছে আরও ২ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা রয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
শামিমের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে সোহাগের পক্ষ নিয়ে পাশের সবজি বিক্রেতা মামুন ওই বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মামুন কদবেল কাটার কাজে ব্যবহৃত ধারালো চাকু দিয়ে মধুর বুকে আঘাত করেন। এতে মধু গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এঘটনায় নিহতের ছেলে বাদি হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা দায়ের করবেন বলে জানাগেছে।
দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শামসুজ্জোহা জানান, মধুকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বুকের ভেতরের প্রধান শিরা কেটে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ফুটপাতে ফল ও সবজি বিক্রেতাদের মধ্যে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে দামুড়হুদা মডেল থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আজ লাশের পোস্টমর্টেম শেষে নিহতের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের হয়নি।
এদিকে মধুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কার্পাসডাঙ্গা এলাকায় শোক ও উত্তেজনা দেখা দেয়। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।